Skip to content Skip to footer

ব্যবসার শুরু থেকেই ব্র্যান্ডিং এ গুরুত্ব দিন

ভাবতে পারেন ব্র্যান্ডিং বুঝি অ্যাপেল, গুগল, ম্যকডোনাল্ডস কিংবা দেশের সুপরিচিত কোম্পানি গুলোর জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু ব্যবসায়িক নিমিত্তে, ছোট বা বড় পরিসরে শুরু থেকেই ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে ভাবা দরকার।
সাধারণত অনেক ব্যবসায়ী ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্য করেন না। ভেবে থাকেন শব্দ দুটি একই ।
আসলে ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং দুটি স্বতন্ত্র ধারণা।
ব্র্যান্ডিং দিয়ে বোঝায় একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেমন? তার নিজস্বতা, সুনাম, অভিজ্ঞতা, ও তার প্রতি গ্রাহক বা ক্রেতার প্রত্যাশা। ক্রেতার বিশ্বস্ততা এবং স্বীকৃতির পেছনে চালিকা শক্তি হিসেবে ব্র্যান্ডিং কাজ করে।
অর্থাৎ পণ্য, সেবা ও ব্যবসার ব্যপারে ক্রেতার সহজে মূল্যায়নের একটি ভাল উপায় ব্র্যান্ডিং।
অন্যদিকে মার্কেটিং হল সেলস ও রেভিনিউ বৃদ্ধির কৌশল, নতুন ক্রেতা তৈরি এবং বাজারের আধিপত্য আস্তে আস্তে দখল করার কৌশলী কর্মপন্থা।
তার মানে, ব্র্যান্ডিং আপনার ব্যবসায় পরিকল্পনার একটি অংশ। আর মার্কেটিং ব্র্যান্ডের শক্তি বাড়িয়ে ব্যবসা, পণ্য ও সার্ভিস কে প্রমোট করার সহায়িকা।
ব্যবসায় নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা রাখতে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এবং ধাপে ধাপে বড় কোম্পানিতে রূপ দিতে বাজেট পরিকল্পনায় অবশ্যই ব্র্যান্ডিং এ প্রাধান্য দিতে হবে।
বড় কোম্পানিগুলির ব্র্যান্ডিং এর জন্য বড় বাজেট থাকে। কিন্তু নতুন উদ্যোক্তাদের একটি কার্যকর ব্র্যান্ডিং কৌশল তৈরি করতে শুরুতেই খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই। তাহলে কী করতে হবে?

। প্রথমত ।

আপনার ব্যান্ড এর উদ্দেশ্য কি তা নিজের কাছে স্পষ্ট করুন। নিজেকে গভীর কিছু প্রশ্ন করে তার উত্তর ও বিশ্লেষণ থেকে ব্র্যান্ডের সংজ্ঞা বের করুন। যেমন,
ব্র্যান্ড হিসেবে কোম্পানিকে কোথায় দেখতে চান?
আপনার পণ্য ও সেবার সমাধান কেমন হবে?
পণ্যের অনন্য দিক কোনটি?
কেনইবা ক্রেতা আপনার ব্র্যান্ডকে বেছে নিবে?

। দ্বিতীয়ত ।


প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে রিসার্চ করুন। তাদের ব্র্যান্ডিং অবস্থান ও কৌশল সম্বন্ধে জানুন এবং উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। এটি আপনার নিজস্ব পণ্য ও সার্ভিস এ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করবে।

। তৃতীয়ত ।

আপনার টার্গেট গ্রুপ কারা তা নির্ধারণ করুন। যাদের আপনি ক্রেতা হিসেবে পেতে চান এবং যারা ইতিমধ্যে আপনার ক্রেতা তাদের ডেমোগ্রাফিক ডাটা এবং পছন্দ, অপছন্দ নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন এবং একটি বায়ার পারসোনা নির্ধারণ করুন।

। চতুর্থত ।

আপনার ব্র্যান্ডের একটি পারসোনালিটি আছে – উদাহরণস্বরূপ হালকা মেজাজের না সিরিয়াস; গতানুগতিক না আধুনিক; ইত্যাদি। ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে যেন এই পারসোনালিটি উঠে আসে এবং সেটা যেন বজায় থাকে। ব্যবসায়ের পক্ষ থেকে কোনো কিছু লেখা বা ছবি, ডিজাইন, প্যাকেজিং – সব কিছুই ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের অংশ। একেকবার একেকরকম পারসোনালিটির কমিউনিকেশন গেলে ব্র্যান্ড ইমেইজ তৈরি হতে পারে না।

। পঞ্চমত ।

ব্র্যান্ড স্টোরিকে বিকশিত করুণ। প্রতিটি ভাল ব্র্যান্ডের পেছনে একটি একটি গল্প এবং ধারাবাহিক কিছু বার্তা থাকে। প্রতিষ্ঠার পেছনে অনুপ্রেরণা, দিকনির্দেশনার দর্শন, ভ্যালুস এর প্রতিফলন নিয়ে আপনার যাত্রার গল্পের আবেগ মার্কেটে একটি ভিন্ন ধারণার জন্ম দেবে।
তারা যা বলে তা সত্য; এমন বার্তা ক্রেতার মনে ছড়াবে।

। ষষ্ঠ ।

অবশ্যই ভিজুয়্যাল আইডেন্টিটি তৈরি করুণ। যাতে ব্র্যান্ড এর গল্প, মূলনীতি, উদ্দেশ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। সেটা হতে পারে বিজনেস কার্ড, লোগো, ওয়েবসাইট ইত্যাদির মাধ্যমেও।
যাতে মানুষ আপনার ব্র্যান্ডের আইকনিক স্বতন্ত্রতা দেখে খুব সহজেই পণ্যগুলো চিনতে পারে। যেমন – ফেসবুক বা ইউটিউব এ ভিডিও রাখলে কিংবা যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যেকোনো কাজে স্পষ্টভাবে লোগো ও অন্যান্য শনাক্তকারী ব্র্যান্ড উপাদান প্রদর্শন করুন।

। সপ্তমত।


বিজনেসে ব্র্যান্ডকে সমন্বিত করুন। অর্থাৎ ব্যবসার প্রতিটা দিক আপনার ব্র্যান্ডে যেন প্রতিফলিত হয়। সেটা হতে পারে অনলাইন উপস্থিতিতে, খুচরা দোকান, কাষ্টমার কেয়ার ও সার্ভিস এর মাধ্যমে। ।
ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এর জন্য অনেক পরিকল্পনা এবং চিন্তার প্রয়োজন। কিন্তু এতে বিশ্বাস, স্বীকৃতি, বিশ্বস্ততা এবং খ্যাতি তৈরির মাধ্যমে ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই ফলাফল পাবেন আপনি। ।

Leave a comment