Skip to content Skip to footer

ওয়াসিফুর রহমান

ওয়াসিফুরের ম্যাজিক লাইট আলোকিত করছে অন্যদের


ছোটবেলা কেউ যখন ভবিষ্যতে কী হবো জানতো তখন তোতাপাখির মত শেখানো বলতাম, ডাক্তার হবো। আজ আমি অনেক কম বয়সেই উদ্যোক্তা হয়েছি, আমি ভালো আছি। বিদেশের ডিগ্রী থাকা সত্বেও যারা আমাকে চাকরি দেয়নি মনে মনে আজ আমি তাদের প্রতিই কৃতজ্ঞ। ৯টা থেকে ৫টা চাকরি করার চেয়ে উধ্যোক্তা হয়েছে এটাই বড় পাওয়া, কথাগুলো ম্যাজিক লাইটের ম্যাজিক দেখানো তরুণ উদ্যোক্তা ওয়াসিফুর রহমানের ( ২৩)।
পুরান ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ওয়াসিফুর বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শেষ করেই উচ্চ শিক্ষারর জন্য —সালে গিয়েছিলেন বিদেশে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার জন্য। বিদেশে ডিগ্রী শেষ করে ২০** সালে দেশে এসে নিজের ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণে একের পর এক চাকরির আবেদন করে গেছেন। ভেবেছেন শুধু চাকরি নয়, অনেক ভালো চাকরিই তিনি পাবেন যেহেতু বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন। কিন্তু অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ওয়াসিফুরের সেই ভাবনা আর স্বপ্নের ডালপালা ভেঙ্গে যেতে শুরু করে। চাকরির বাজারে নিজেকে প্রমাণিত করতে পারছিলেন না। অসংখ্য বেকারের ভিড়েও তিনি সামিল হতে চলেছিলেন। একর পর এক ইন্টারভিউ দিয়েও চাকরি হচ্ছিল না। কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না তার কমতি কোথায়। পুরান ঢাকার আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা ছেলে ওয়াসিফুরের বুঝতেঅসুবিধা হয়নি চাকরির এ পথ তার জন্য নয়। তার পথ চাকরি দেবার।
শুরু করেন নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। কি করবেন? কিভাবে করবেন? ভাবতে ভাবতে নিজের সম্পদ নিজের কাছেই উন্মুক্ত হলো। তিনি যে বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন সেখান থেকে কিছুটা জ্ঞান আর নিজের বাস্তব বুদ্ধি খাটিয়ে দেখলেন বাংলাদেশের লোড শেডিং এর কারণে বাইর থেকে প্রচুর চার্জার লাইন আমদানি করতে হয়, সেগুলো কিছু দিন পর নষ্ট হয়ে যায়। আর বিদ্যুতের খরচও প্রচুর। ঠিক করলেন এমন কিছু করবেন যাতে আয়ও হবে, দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে একটু হলেও কাজে লাগবে তার উদ্ভাবন। শুরু করলেন ম্যাজিক লাইট বানানো। প্রথমে নিজেই বাজার থেকে বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল কিনে নিজের ঘরে এনে তা নতুন রুপ দিতে শুরু করেন। ওয়াসিফুর সেঞ্চরযুক্ত গঘেরে চার্জার লাইট তৈরি করলেন। বাজারে যে চার্জার লাইন আছে তা হাত দিয়ে অন-অফ করতে হয়। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুমিয়ে পড়লে মনে থাকে না নেভাবে। এভাবে লাইট নষ্ট হয়, ঘন ঘন চার্জের ফলে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ে। ওয়াসিফুরের তৈরি ম্যাজিক লাইট অন্ধকার হলেই জ¦লে উঠবে, সামান্য আলো পেলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবে যায়, আর এতে সোলার প্যানের ক্ষুদ্র অংম যুক্ত থাকার ফলে সৌর আলোতেও চার্জ করানো যায়। এতে ঘন ঘন চার্জ দেবার প্রয়োজন কম হয় আর বিদ্যুতের অপচয় রোধ কমে। কিন্তু সমস্যঅ দেখা দেয় একটি সুচারু ব্যভসা পরিকল্পনার, যার মাধ্যমে তিনি তার এ উধ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এ সময়ই তিনি যুক্ত হন বি’ইয়ার সাথে। বি’ইয়া থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং তার বিপণন সমস্যাকে লাঘব করে। এবার বুঝতে পারেন কোন কোন উপায়ে আর কিভাবে এর বিপণন করবেন।
প্রথমেই তিনি তার ম্যাজিক লাইট তৈরি কারখানা বাসা থেকে বাইরে আলাদা ঘর ভাড়া করা ঘরে স্থানান্তর করেন। দু’জন কারিগর রাখেন আর ব্যবসা পরিকল্পনা অনুসারে অনলাইনে ম্যাজিক লাইটের পেইজ খোলেন, অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন বিভিন্ন মেলায়। তার তৈরি পণ্যের গুণগতমান উন্নয়নে প্রতি নিয়ত গবেষণা করছেন ওয়াসিফ। ঢাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স দোকান এবং সুপারশপে এখন শোভা পাচ্ছে ওয়াসিফুরের ম্যাজিক লাইট। যে ম্যাজিক লাইট তাকে চাকরি প্রার্থী থেকে চাকরি দাতায় পরিণত করেছে।

Leave a comment