Skip to content Skip to footer

জেসিমন আহমদ

জেসিমন আহমদ

পরিবার সদস্য সংখা ৪ জন। স্বামী ও দইু ছেলে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছে। ছোট ছেলের ৪ বছর। স্বামী ইন্টোরিউর এবং কাঠের ব্যবসা করতেন। ২০১৯ সালে ব্রেন স্টোক করে এখন শয্যাসায়ী। স্টোক করার পর আস্তে আস্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। স্বামীর চিকিৎসার জন্য অনেক খরচ হয়ে যায়।
সংসারের টানা পুরন শুরু হয়, স্বামীর চিকিৎসা খরচ, বড় ছেলের লেখা পড়ার খরচ চালাতে হবে। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। এক সময় মনোস্থির করি নিজেই কিছু করতে হবে। বড় ছেলের সাথে শেয়ার করি বিষয়টি। ছেলে উৎসাহ দিয়েছে, জেসমিন মায়ের কাছ থেকে হাতের কাজ শিখেছিলেন। ভাবলেন এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতে হবে। বড় ছেলের জমানো ৫০০০ টাকা দিয়েই উদ্যোক্তা জীবন শুরু।
২০১৮ সালে ব্যবসা করতে গিয়ে শশুরবাড়ি থেকে ও স্বামীর দিক থেকে কোন সহযোগীতা পাইনি জেসমিন। ২০২০ সালে ট্রেড লাইসেন্স করেন। ছোট পরিসরে ২টি সেলাই মেশীন, ব্লক এর টেবিল নিয়ে কারখানা শুরু করেন। এলাকার ক্রেতাদের সাড়া পেয়েছিল ভালই। করোনা কালীন সময়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং কারখানা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু হতাশ না হলে চলবে না, হাল ছাড়লে চলবে না। সংসার খরচ, স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে হবে। তাই বাসায় কারখানার সেট আপ করে আবার শুরু করলেন।
স্বপ্ন ছিল সমাজের অবহেলিত নারীদের নিয়ে কিছু করার। কাজ করতে গিয়ে চোখে পরে এলাকার কিছূ প্রতিবন্ধি ভাই-বোন। বাসায় গিয়ে গিয়ে তাদের ব্লক, বাটিক, হ্যান্ড পেইন্ট, সেলাই এর প্রশিক্ষন করাই। দক্ষ করে তুলি তাদের। এখন তাদের দিয়েই মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করাই। শুধু তাই না ব্যবসার লাভের ৫% তাদের দিয়ে থাকি এবং প্রতিবন্ধি ফোরাম নামে একটি সংগঠন আছে। অনলাইনে বিক্রয় ভাল হচ্ছে। পরিচিতি বৃদ্ধি পেয়েছে বকুল এর।
ব্যবসায় ডিজিটাল দক্ষতা একে বাড়েই ছিল না। মার্কেটিং ও নেটওয়াকিং কিভাবে করব। ব্যবসার সঠিক কোন পরিকল্পনা ছিল না। অনেক সমস্যার সমুখীন হয়েছেন জেসমিন।
করোনা কালীন সময়ে দেশে লকডাউন উৎপাদন বন্ধ, তখন জেসমিন বি’ইয়া থেকে Ecommerce & Digital Marketing Skills প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করি। অনলাইনে ব্যবসা করার মনোবল বৃদ্ধি পেল। ফেইজবুক পেইজ এর আরো আপডেট করে মার্কেটিং এর কৌশল গুলো ব্যবহার করেছি।
দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করছি। দেশের বিভিন্ন জেলায় শো-রুম ওপেন করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। সেই সাথে সমাজে তৃনমুল নারীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরী করা এবং দেশে এবং দেশের বাহিরে দেশিয় পণ্য বিশ্ব দরবারে পরিচিতি ও সম্পসারন করা।

Leave a comment