Skip to content Skip to footer

তাবাচ্ছুম জাহান

জীবন যুদ্ধে জয়ী এক উদ্যোক্তার নাম তাবাচ্ছুম জাহান


জীবন এবং জীবিকার সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হওয়া একজন উদ্যোক্তার নাম তাবাচ্ছুম জাহান। পুরান ঢাকার বকশীবাজারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাবাচ্ছুম একটি এনজিওতে হস্তশিল্প পণ্যের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে করতে নিজেই উদ্যোক্তা হয়েছেন। আজ তিনি চাকরি ছেড়ে চাকরি দেয়ার অবস্থান তৈরি করেছেন। তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা একটু ভিন্ন।
৩১ বছর বয়সী তাকাচ্ছুমের ছোটবেলা থেকেই হস্তশিল্প পণ্যের প্রতি ঝোঁক ছিলো, বিভিন্ন পণ্য নিখুঁতভাবে তৈরি করতে পারতো। এই দক্ষতাই তাকে ২০০৪ সালে প্রশিক্ষক পেশা বেছে নিতে সহায়তা করেছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য নারীকে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দিয়েছেন যাদের অনেকইে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এভাবে কাজ করতে করতে অজান্তে নিজের মধ্যে বাসা বেধেছিলো বোন ক্যান্সারের জীবাণু। কিন্তু তিনি হেরে যাননি, দমে যাননি। চিকিৎসা করে ২০০৮ সালে বোন ক্যান্সার থেকে পুরোপুরি নিস্কৃতি পেয়েছেন। পরিবার পরিজন তার হাসি মুখ দেখে নিতে পেরেছে শান্তির নি:শ^াস। তিনি নিজেও নতুন উদ্যোম কাজে নেমেছেন।
প্রশিক্ষণ দিতে দিতে তাবাচ্ছুম লক্ষ্য করলেন তার প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়েছেন। তারা অনেক কর্মসংস্থান করেছেন, ভালো আয় রোজগার করছেন । তিনি ভাবলেন, তাহলে তার এই দক্ষতাকে কেন তিনি উদ্যোক্তায় পরিণত করবেন না? এই ভাবনা থেকে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা শুরু প্রভৃতি প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য বি’ইয়া’র সাথে যোগাযোগ করেন। হস্তশিল্প পণ্যের প্রশিক্ষক হলেও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা উন্নয়ন সম্পর্কে তার ধারণা ছিলো কম। বি’ইয়া থেকে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নেয়ার পর চাকরি ছাড়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। ২০১৮ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন ।
তাবাচ্ছুম বলেন, আসলে যেভাবে ব্যবসাকে ভাবতাম সে ধারণা আমুল পরিবর্তন হয়েছে বি’ইয়াতে এসে। সত্যি বলতে কি, উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন নয়, কঠিন হলো উদ্যোগ শুরু করা। আমি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তা করেও শুরু করতে পারিনি, সেই উৎসাহ কারো কাছে পাইনি। কিন্তু বি’ইয়া আমাকে প্রেরণা দিয়েছে, জানার ক্ষেত্র দিয়েছে। আমি শুরু করেছি।” তাবাচ্ছুমের তৈরি বিভিন্ন পণ্য যেমন পুঁথি, পাটসুতা, কাঠ, নারকেলের মালাই, বাঁশজাত বিভিন্ন পণ্য এখন বিভিন্ন মেলা এবং অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, ভাল সাড়া পাচ্ছে। এখন তার প্রতিষ্ঠানে ** জন কর্মী রয়েছে। কিন্তু সমস্যা রয়েছে মার্কেটিং এ। তার মতে, যদি সরকার এবিষয়ে আরো উদ্যোগী হয় তাহলের দেশের হস্তশিল্প উৎপাদনকারী উদ্যোক্তারার আরো এগিয়ে যাবে। আমাদের পণ্য আন্তজার্তিক মানের কম কিছু নয়, এখন প্রয়োজন আরো নেটওয়ার্ক ও মার্কেট।’
তাবাচ্ছুম বি’ইয়া’র সক্রিয় উদ্যোক্তাদের একজন। তিনি জীবন যুদ্ধে জয়ী একজন মানুষ,একজন উদ্যোক্তা যাকে দেখে অন্য তরুণরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে উদ্যোক্তা হতে। তাবাচ্ছুম বলে, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন তরুণদেরকে উদ্যোক্তামুখি করা। আমার সহযোগিতা থাকবে সর্বদা।

Leave a comment