Skip to content Skip to footer

পারুল বেগম

জীবন যুদ্ধে জয়ী পারুল বেগম


পারুল বেগম ছিলেন একজন গামেন্টস কর্মী, তিনি এখন একটি কারখানা ও একটি দোকান পরিচালনার কর্ণধার। একই সাথে সন্তানদের সঠিক লেখাপড়ার দিকও খেয়াল রাখেন। পারুল বেগম বলে, দক্ষতা আর আতœবিশ^াস থাকলে যে কোন কাজে সফল হওয়া যায়।
পারুল বেগম (৩৫) স্বামী ও দুই সন্তানসহ ঢাকার বাড্ডায় বসবাস করছে দীর্ঘ ৩০ বছর। স্বামীর একটি ছোট রুটি তৈরির কারখানা ছিল। সংসারের ব্যয়ভার মেটানোর জন্য পারুলকে গামেন্টেসে সেলাইয়ের কাজ করতে হয়েছিলো। ভালই চলছিলো সংসার, কিন্তু তাদের রুটি তৈরির কারখানাটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হয়ে পড়ে দিশেহারা। তার স্বামী মানসিকভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধুমাত্র গার্মেন্টেসে কাজ করে সন্তানদের লেখাপড়া, সংসার খরচ মেটানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। পারুল এবার চিন্তা করলো, যেহেতু নিজের গার্মেন্টেসে কাজের অভিজ্ঞতা তাই তা কাজে লাগানো প্রয়োজন।
পারুল কিছু জমানো টাকা দিয়ে গার্মেন্টেস থেকে লটের প্যান্ট কিনে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। গার্মেন্টেসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে পারুলের খুব ভাল সম্পর্ক। দক্ষতা ও বিনয় তাকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছিলো। সে জমানো টাকা দিয়ে তার গার্মেন্টস থেকেই প্রথমে প্যান্ট কিনে তার স্বামীকে দিয়ে বাজারে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি শুরু করলো। এরপর বিক্রি যখন বাড়ছিলো সে আতœীয়ের কাছে কিছু টাকা ধার করে ২০১৭ সালে ৩টি সেলাই মেশিন কিনে বাড়িতেই প্যান্ট তৈরি করা শুরু করে। ২০১৮ সালে বি’ইয়ার সাথে যোগ যোগাযোগ হয় পারুর বেগমের। বি’ইয়ার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ব্যবসা পরামর্শ নেয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয় একটি দোকান দেবে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাড্ডায় তৈরি “ষোলঅনা ফ্যাশান” নামে তৈরি প্যান্টের দোকান দেয় পারুর বেগম। পারুল বেগম বলেন, আমি সেলাই ছাড়া কখনও কোন ধরণের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করিনি। বি’ইয়ার প্রশিক্ষণে নেয়ার পর আমি জেনেছি কিভাবে কর্মী ব্যবস্থাপনা করতে হয়, কিভাবে ব্যবসার হিসাব রাখতে হয়। বিনি বলেন, এখন আমার একটি দোকান রয়েছে। আমি হিসাব আর মার্কেটিং দেখি, আমার স্বামী কর্মী ব্যভস্থাপনা করে। যখন ২০১৬ সালে শুরু করেছিলো তখন তার কোন কর্মী ছিলো না। বর্তমানে ষোলআনা ফ্যাশান এ কর্মরত আছে ৫ জন কর্মী, দশ লক্ষ টাকার পুঁজি রয়েছে তার ব্যবসায়। বাড্ডা, ফার্মগেইট, নিউমাকেটে তার তৈরি প্যান্ট বিভন্নি দোকানে বিক্রি হচ্ছে।
পারুল বেগম যাদের কাছে টাকা ধার করেছিল তাদের সব টাকা পরিশোধ করেছে। তার দোকানটা বড় করতে পারলে ভালো হতো। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরে বুঝতে পেরেছে দোকানটা আর কোন ভাল জায়গায় পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এ জন্য ঋণ নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু ব্যবসা বড় করলেও ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যাংক একাউন্ট খোলার কথা সে জানতো না, বি’ইয়া’র যুক্ত হওয়ার পরে জেনেছে ব্যাংক ঋণ নেয়ার বা যে ব্যভসার ভেধভাবে পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করা কতটা জরুরী। একখ সে ট্রেড লাইসেন্স করেছে, আর কিছুদিনের মধ্যে ব্যাংকে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নামে একাউন্ট খুলে বি’ইয়ার সহযোগীতায় মাউডাস থেকে ঋণ নিয়ে কারখানা ও দোকান আরো বড় করার করবে পারুল বেগম।
পারুল বেগম তার তিন সন্তানকেই ভালোভাবে লেখাপড়া শিখাতে বদ্ধ পরিকর। তার সন্তানরাই একদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেবে। পারুল একজন আতœপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তার নাম। বিনয়ী, সদা হাস্যোজ্জ্বল পারুল বেগম ভয় পান না কিছুতেই। তিনি জানেন তার পরিবার রয়েছে তার পাশে আর আছে বি’ইয়া’র পরামর্শ।

Leave a comment