Skip to content Skip to footer

মাহমুদা আক্তার

মাহমুদা আক্তার

আমি মাহমুদা আক্তার, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা- কাজ করছি মেয়েদের পোশাক নিয়ে বিগত দুই বছর ধরে । বাবা, মা, এক বোন, এক ভাই নিয়ে আমাদের পরিবার। আমি ইডেন মহিলা কলেজ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি ম্যানেজমেন্টের উপরে। পড়ালেখা শেষ করার পরে চাকুরি খোজা শুরু করি, কিন্তু করোনা পরিস্থিতি চলে আসার কারণে চাকুরিও পাচ্ছিলাম না। তখন আমি তৈরী পোশাক কিনে এনে ফেসবুকে স্টাইলিন নামে পেজ খুলে বিক্রি করার চেষ্টা করি। কিছুদিন এভাবে চলার পর ভাবলাম, এবার নিজে ডিজাইন করে কিছু করি। আমি নিজেও বোরখা পড়ি তাই ভাবলাম নিজের ডিজাইন করা বোরখা নিয়ে কাজ করা শুরু করব। ইউটিউব দেখে দেখে আমি নিজেই সেলাই এর কাজটা রপ্ত করে নিলাম। টিউশনি করে জমানো ১৫০০০ টাকা আর মায়ের কাছ থেকে নেয়া ১০০০০ টাকা; এই মোট ২৫০০০ টাকা ছিল আমার ব্যবসার প্রাথমিক মূলধন। ব্যবসা শুরুর দিকে মাসিক বিক্রি ছিল ৫,০০০ টাকার মত। পরবর্তীতে আমার একজন বন্ধুর কাছ থেকে বি’ইয়া সম্পর্কে জানতে পারি যারা তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকে। আমার বন্ধুও বি’ইয়ার প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছে। তার কথায় আমি খুবই উৎসাহ পেলাম। বি’ইয়ার সাথে আউটরিচ প্রোগ্রাম করার মাধ্যমে ৮ দিনের এডভান্স ডিজিটাল স্কিল ট্রেনিং এর জন্য নির্বাচিত হই। এই ট্রেনিং থেকে আমি অনলাইন ব্যবসার অনেক কিছু জানতে পারি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল লোগো ডিজাইন, পেজ বুস্টিং, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি ইত্যাদি। এছাড়াও ট্রেনিং থেকে ফেসবুক পেজ ম্যানেজ করা, ফেসবুক মার্কেটিং, এনগেজমেন্ট এগুলোও শিখেছি। কিন্তু এগুলো আমি আরো ভালোভাবে শিখতে চাই। কেননা ডিজিটাল টেকনোলজি প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেকে সময়োপযোগী করে তোলার জন্য এই ট্রেনিংগুলো চলমান থাকা খুবই জরুরী বলে আমি মনে করি। ট্রেনিং ছাড়াও বি’ইয়ার ১-১.৫ ঘন্টার যে ওয়েবিনার এবং গ্রুপ মেন্টরিং গুলো হয় সেগুলোতে সবসময় থাকার চেষ্টা করি। ব্যবসার অনেক খুটিনাটি প্রয়োজনীয় ব্যাপারগুলো এই আয়োজন থেকে জানতে এবং কাজে লাগাতে পারি। বি’ইয়া থেকে বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে ব্যবসাকে উন্নত করার পর এখন আমার মূলধন ২ লক্ষ টাকা এবং মাসিক বিক্রি ২২০০০-২৫০০০ টাকা। আমার ব্যবসার আজকের এই উন্নতির জন্য আমি বি’ইয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করছি বি’ইয়ার সহযোগিতা পেয়েই আমার স্টাইলিন অদূর ভবিষ্যতে দেশে- বিদেশে অনলাইন এবং অফলাইনে একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ড হিসেবে সুপরিচিতি পাবে।

Leave a comment