Skip to content Skip to footer

মোঃ গোলাম রসুল খান

বর্তমানে আমার পরিবারে আমার মা আছেন আমার বাবা ২০১৯ এর  ডিসেম্বরে গত হয়েছেন । আমরা দুই ভাই তিন বোন । দুই বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে ।  আমি ভাইদের মধ্যে বড় আমার একটা ছোট ভাই ও একটি ছোট বোন আছে।

ছোটবেলা থেকেই আমার ব্যবসার প্রতি একটা ঝোঁক ছিল। আমার বাবাও একজন বিজনেসম্যান ছিলেন। সেই সুবাদেই ব্যবসার প্রতি অন্যরকম একটা আকর্ষণ কাজ করতো। নিজে কিছু করার ইচ্ছা ছিল স্বাধীনভাবে চলার ইচ্ছা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ব্যবসাতে পদার্পণ।

আসলে এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে অনেক বড় গল্প বলতে হবে। তবে ছোট করে যদি বলি ব্যবসার প্রতি আমার আকর্ষণ তো ছোটবেলা থেকেই। যখন আমি ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করি তখন চাকরির জন্য অনেকের কাছেই দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিন্তু চাকরি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের কাছ থেকে নানান ধরনের উপদেশ পাই। যে উপদেশ গুলো আমাকে পরবর্তী সময়ে ব্যবসার দিকে অগ্রসর হতে অনেক বেশি সাহায্য করে। তখন থেকেই নিজে নিজে কিছু করার চিন্তা ভাবনা করতে থাকি। এছাড়াও আমি অনেক সেমিনার, আলোচনা সভা, এক্সিবিশন, মেলা এরকম আরো অনেক অনুষ্ঠানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করি।  সেই কাজের প্রেক্ষিতে অনেক উদ্যোক্তাদের সাথে আমার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা কিভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে যে সম্পর্কে অনেক ধারণা পাই। এভাবে করেই একটা সময়ে ব্যবসাতে চলে আসেন।

বর্তমানে আমার ব্যবসাটা আমি বাসায় থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করি।  বিগত দুই বছর করোনার কারণে আমার ব্যবসায়ের যথেষ্ট পরিমান ক্ষতি হয়। আমার অনেক প্রেমেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও এখন গুটিগুটি পায়ে বাসা থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করি।

ব্যবসা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তা হচ্ছে কাস্টমারদের আস্থার অভাব এবং তাদের কাছ থেকে যথাসময়ে পেমেন্টটা না পাওয়া।

বি’ইয়ার সাথে পরিচিত হবার পরে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে অনেক বড় অবদান রেখেছে তা হচ্ছে বি’ইয়া আমাদেরকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করার একটা গঠনমূলক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যবসা এর সকল সিদ্ধান্তগুলো সুন্দর, সুনিপুন  ও  গঠনমূলকভাবে নিতে শিখেছি। বিয়া আমাদেরকে আরো শিখিয়েছে কিভাবে ব্যবসায়ের হিসাব রাখতে হয়, ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট দরকার হয়, কিভাবে কর্মী পরিচালনা করতে হয়, কিভাবে পণ্য সংগ্রহ করতে হয়, আমার উৎপাদিত পণ্য কিভাবে বিক্রি করতে হয় এবং পণ্যের মূল্য কিভাবে নির্ধারণ করতে হয় এছাড়াও আরো অনেক বিষয়।

আমাদেরকে একটি গ্রুপ করে প্রত্যেকটা গ্রুপের চারজন কোন কোন গ্রুপের ৫ জন মেম্বার এর মধ্যে একজন মেন্টর প্রদান করেছেন। আমরা প্রতি মাসে দুইবার মিটিং করে আমাদের ব্যবসায় সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে তার সাথে আলোচনা করি। তিনি আমাদের সমস্যা মোকাবেলায় যথেষ্ট সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। আসলে আমার লক্ষ্য আমি আমার ব্যবসাটাকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবো যেখান থেকে আমি আসলে শুধু যে মুনাফা অর্জন করব তা না বরং কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো যার দ্বারা ছোট ছোট আরো অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি হবে এটাই আমার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

Leave a comment