Skip to content Skip to footer

শান্তা ইসলাম সাথী

সময়কে সুযোগে পরিণত করা একজন উদ্যোক্তার নাম সাথী


“শুধুমাত্র একজন গৃহিনীর পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করার কোন বাসনা ছোট বেলা থেকেই ছিলো না। তাই আমি স্কুল সময় থেকেই কারাতে, ক্রিকেট খেলায় জড়িত ছিলাম। এরপর চাকরি ছেড়ে শুরু করেছি ব্যবসা। আমি একজন নারী উদ্যোক্তা এটিই আমার প্রথম পরিচয়’ কথাগুলো অপ্সরী বিউটি পার্লার-এর কর্ণধার শান্তা ইসলাম সাথী’র (২৭)।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে মাধ্যমিকে পড়ার সময়ে সাথীর বিয়ে হয়ে যায়। স্বামী, শ^শুড়-শাশুড়ি নিয়ে মিরপুরে বসবাস করেন। বিয়ের আগে সাথী বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। সম্পন্ন করেছেন মার্শাল আর্ট কোর্স, পেয়েছেন জাতীয় পুরষ্কারও। শখের বশে সাথী তিন মাসের বিউটি পার্লার বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি কিন্তু বিয়ের পর অনেক চেষ্টা করেও সেসবে আর নিয়মিত হতে পারেননি। বিয়ের কিছুদিন পর ফুটফুটে একটি মেয়ে হয়, নাম দেন অপ্সরী। সংসার ভালই চলছিলো, স্বামীর টাকায় মিরপুরে একখন্ড জমিও কিনে রাখে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। হঠাৎ করে স্বামীর ব্যবসায় মন্দা আসে, ফুটফুটে মেয়েটি হঠাৎ অসুখে মারা যায়। মানসিক, আর্থিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে সাথী। তারপরও মানুষকে বাঁচতে হয়। উপায় অন্তর না দেখে জীবন যুদ্ধে নামতে হয় সাথীকে।
২০১৪ সালে বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় মিরপুর ১০ এ শুরু করেন অপ্সরী বিউটি পার্লার। কিন্তু পার্লারের আয় দিয়ে তার সংসার কিছুতেই চলছিল না। তার স্বামীও ভাল চাকরি পাচ্ছিল না। ক্রমেই হতাশা তাকে গ্রাস করছিল। ডিসেম্বর ২০১৬ সালে সে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে বিইয়া’র সাথে যুক্ত হয়। বিভিন্ন কর্মশালা, দুই ধরণের প্রশিক্ষণ নিয়ে সাথী মানসিকভাবে শক্ত হয়। সাথী বলে, বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত হওয়ার পর আমি নতুন করে বাঁচতে শিখলাম। প্রশিক্ষণ নেয়ার পর আমি আমার প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক একাউন্ট করে ফেলি। বি’ইয়ার সহযোগীতায় একটি ব্যবসা পরিকল্পনা করি। প্রশিক্ষণের পর আমি ব্যবসা সম্পর্কে অনেক জেনেছি, শিখেছি। বি’ইয়া আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয় মাউডাসের সাথে। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে করার জন্য আমি মাউডাস থেকে খুব সহজেই ২০১৭ সালে আমি ৪ লক্ষ টাকা ঋণ পাই। সেই টাকা দিয়ে আমি ১৬০০ স্কয়ার ফুটের অন্য একটি বাসায় আমার অপ্সরী বিউটি পার্লার শুরু করি। আমার ব্যবসার প্রসার বাড়তে থাকে, ব্যবসা পরিকল্পনা অনুসারে আমি বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা করতে থাকি। এতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়তে থাকে।
সাথী’র অপ্সরী বিউটি পার্লার এখন খুবভাল চলছে। তার মেন্টর তাকে বিভিন্নভাবে ব্যবসা পরামর্শ প্রদান করছে। মাইডাস থেকে নেয়া ঋণ সে নিয়মিত পরিশোধ করছে। সাথী আরো বলে, প্রথমে যখন ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন এত কিছু বিষয় জানতাম না। ভাবতাম, একটা কিছু শুরু করলেই হবে। কিন্তু বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত হওয়ার পরে অনুধাবন করতে পারি যে, ব্যবসায় একজন কর্মীর প্রজনন স্বাস্থ্য থেকে সাপ্তাহিক ছুটি সবকিছুই একজন উদ্যোক্তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সামলাতে হয়। সে কাজটি এখন আমি বেশ ভালোভাবেই করতে পারি।” সাথী জানে সুযোগ সব সময় আসে না, কিন্তু সময়কে সুযোগে পরিণত করতে পারে একজন বুদ্ধিমান উদ্যোক্তা। সাথীর অপ্সরী বিউটি পার্লারের মাসিক নেট আয় বিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা, ৬ জন কর্মী তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। তার মেন্টর বলে, সাথী নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য উদাহরণ। সে যেভাবে জীবনে সংগ্রাম করে বি’ইয়া’র সহযোগিতায় আবার উঠে দাঁড়িয়েছে তা নতুন উদ্যোক্তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে।
সাথী তার অপ্সরী বিউটি র্পালারকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আধুনিক উপকরণ, জিম, হারবাল প্রোডাক্ট, প্রশিক্ষণ কক্ষ ইত্যাদি থাকবে। এভাবে তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধমে অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হবে। সাথী তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলেছে।

Leave a comment