Skip to content Skip to footer

সাইফুল ইসলাম

একজন উদ্যোক্তা ও সংগঠক সাইফুল


সদা হাস্যোজ্জল মো: সাইফুল ইসলামের দৃঢ় বিশ^াস এবার তিনি ব্যবসায় স্থির হতে পেরেছেন। “জীবনে আমি অনেক ব্যবসা করেছি কিন্তু কোনটাতেই স্থির হতে পারিনি। কিন্তু বি’ইয়া’র প্রশিক্ষণ আমাকে এই ৩৪ বছর বয়সে স্থির হতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে। আমি বুঝতে পেরেছি সুনির্র্দিষ্ট লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা ছাড়া কোন কিছুই অর্জন ঠিকঠাক হয় না। আমি আমার ব্যবসাকে নতুন করে এগিয়ে নিচ্ছি” কথাগুলো ভারটেক্স এর কর্ণধার মো: সাইফুর ইসলামের। যিনি এখন পাটজাত পণ্যের প্রচার ও প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করছেন, এগিয়ে চলেছেন সফলতার দিকে।
এসএসসি পরীক্ষার পর সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামে বন্দরে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে কোন কিছু না ভেবেই ইলেকট্রক্সি পণ্য কিনে আনেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এক বন্ধুর সাথে শুরু করেন ব্যবসা। ৩ বছর পর বন্ধু বিদেশে চলে যাওয়ার সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর পার্টনারশীপে আইটি ব্যবসার সাথে জড়িত হন। কারণ ব্যবসার থেকেও তার কাছে বড় ছিলো মানুষের জন্য কিছু করা, বিশেষ করে পথ শিশুদের জন্য। সেই ভাবনা থেকেই পথ শিশুদের লেখাপড়া ও মানসিক বিকাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিহরণ-এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হওয়া। পারিবারিক স্বচ্ছলতা থাকায় সাইফুর ব্যবসা বা উদ্যোগকে কখনও গুরুত্ব দেননি। কখনও ভেবে দেখেননি কী লক্ষ্যে, কী পরিকল্পনায় উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে হবে। আইটি ব্যবসার পাশাপাশি সাইফুর একসময় পাটজাত পণ্য তৈরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। সাইফুর জানতেন দেশে এবং বিশ^ বাজারে পাটের গুরুত্ব রয়েছে, সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু তবুও এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে তেমন গুরুত্ব দেননি তিনি।
২০১৮ সালের শুরুর দিকে বি’ইয়ার সাথে যোগাযোগ হয় বি’ইয়া থেকে ২ ধরণের প্রশিক্ষণ পেয়ে তিনি ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরির প্রতি আগ্রহী হন। সেই সাথে বি’ইয়া তাকে একজন মেন্টরের সাথে যুক্ত করে দেয়। ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরির সময় তিনি বুজতে পারেন, গত ৩ টি বছর তিনি অবহেলা করেছেন। ব্যবসা পরিকল্পনা তেরি করার সময় তার যে উপলব্ধি, তার ভাষায়, আমি যেন আমার ব্যবসাকে দেখতে পাচ্ছি। অনেক প্রশিক্ষণ করেছি কিন্তু এভাবে একটা ব্যবসার লিখিত পরিকল্পনা করতে যে বিশ্লেষণ, বাজার চাহিদা করা প্রয়োজন তা জানা ছিলো না। আমি যদি এভাবে বছর দুয়েক আগে আমার ব্যবসায় গুরুত্ব দিতাম তাহলে আমার প্রতিষ্ঠান আজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত। প্রমিক্ষণের পর থেকেই আমি ব্যবসায় গুরুত্ব দিয়েছি। বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ, কারখানার উন্নয়ন, বিপণন সব বিষয়ে খেয়াল রাখছি। বি’ইয়া আমাকে একজন ব্যবসায়িক পরামর্শদাতা যাকে বলে মেন্টর দিয়েছে। তিনি আমাকে ব্যবসায়িক পরামর্শ দেন। সেই সাথে বি’ইয়ার আরো উদ্যোক্তাদের সাথে পরিচয় হয়েছে। আর তাই এবার নিজের উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিকল্পনা অনুয়ায়ি এগিয়ে চলেছি। আমার পার্টনাররাও এখন খুশি । এ জন্য বি’ইয়ার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
একজন সাইফুল ইসলাম একাধারে উদ্যোক্তা এবং সংগঠক। ভারটেক্স এবং শিহরণ নিয়েই এখন তার চিন্তার জগৎ। বর্তমানে তিনি ভারটেক্সের মাধ্যমে পাটজাত পণ্যের প্রচার ও প্রসারে মন দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানে এখন ১৮ জন কর্মী যা বছরখানেক আগেও ছিলো মাত্র ৮ জন। ঢাকার মালিবাগের বাসিন্দা সাইফুর ইসলাম তার সন্তানকেও উদ্যোক্তা করার স্বপ্ন দেখেন। কারণ উদ্যোক্তারাই পারেন চাকরি দিতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে। বি’ইয়ার তরুণ উদ্যোক্তা প্লাটফর্মের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে অন্য উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে কাজ করছেন নিরলসভাবে।
সাইফুল খুঁজে পেয়েছেন সঠিক পথ, পাচ্ছেন দিকনির্দেশনা। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সুপ্রতিষ্টিত হয়ে হাজার হাজার শিশুর মুখে হাসি ফুটানোর প্রত্যয়ে কাজ করছেন তিনি।

Leave a comment