Skip to content Skip to footer

সিরাজুম মনিরা

‘চিরুনী’ একটি উদ্যোগের নাম


কিশোরগঞ্জের মেয়ে সিরাজুম মনিরা( **) একজন আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময়ী উদ্যোক্তা। অনলাইনে চিরুনী ডট কম হতে চুলের হারবাল তেল ও হোম মেইড কেক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০১৯ সালের মাঝামাছি ফিণ্যান্সে মাষ্টার্স শেষ করে এখন সিরাজুম মুনিরা তার উদ্যোগকে সার্থক করার জন্য চেষ্টা করছেন। তার ধারণা সেই দিন খুব বেশি দুরে নয় যদেন সে চাকরিদাতায় পরিণত হবে।
সিরাজুম মুনিরা প্রায়শই বাসায় শখের বশে কেক বানাতেন। পরিবার ও আতœীয় স্বজনের ছোট ছোট অনুষ্ঠানে সে কেক দিত। সকলেরই প্রশংসা করতো। চিন্তা ছিলো কিভাবে এর থেকে আয় করা যায়। কিš ‘পারিবারিক নিয়মকানুনের জন্য এক লেখাপড়ার বাইরে আ কোথাও যোগাযোগ তেমন ছিরো না তার। এক উদ্যোক্তা সহপাঠির সহযোহিতায় বি’ইয়া’র সাথে যোগাযোগ এবং কিছু প্রশিক্ষণ গ্রহণ পর তার চিন্তার দিগন্ত খুলে যায়। কেকের পাশাপাশি সিরাজুম মুনিরা চুলের জন্য নারকেলের তেল এবং কাঠের তৈরি চিরুনী বাজারজাত করছেন তিনি। সিরাজুম মনিরা বলে, আমি নিজের প্রয়োজনে নিজের উদ্ভাবনে বিভিন্ন হারবাল উপকরণ দিয়ে নারকেলের তেল তৈরি করেছিলাম। সেই তেল আমি ও পরিবারে সকলেরই নিয়মিত ব্যবহার করতাম। কিন্তু বি’ইয়া’র উৎসাহে একেই আমি উদ্যোগ হিসেবে যুক্ত করেছি। প্রথমে আতœীয়-স্বজন এবং পরবর্থীতে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার তার নিয়মিত তৈরি তের, কাঠের চিরুনী আর কেকের নিয়মিত ক্রেতা। পারিবারের অন্যরাও সিরাজুম মুনিরার এ উদ্যোগে খুশি। তার মায়ের আনন্দটা আরো বেশি। তিনি বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি এই মেয়ের দ্বারা এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে, তাও আবার কোন দোকান না দিয়েই ঘর থেকেই সে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এ তো চাকরির থেকে অনেক ভালো।
মনিরা বলে,অনেক পরিশ্রম করে বাজার থেকে নারিকেল কিনে তা প্রক্রিয়া করে তেল তৈরি করতাম। এটা একধরণের আর্য়োবেদিক তেল। আমার মা আমাকে খুব সহযোগিতা করেছে। আমি যে উধ্যোক্তা হতে পারবো এ আত্মবিশ্বাস আমার কখনোই ছিলো না। বি’ইয়া আমাকে সেই পথ দেখিয়েছে।
চিরুনী নামে তার পণ্য এখন অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রি হচ্ছে। অর্ডার এত বেশি যে প্রতি সপ্তাহে তাকে ৩-৪ জন মহিলাকে চুক্তিবিত্তিক কাজ করাতে হয়। চিরুনীর তেল, কাঠের চিরূনী আর কেকের কদর বেড়েই চলেছে। তেল তৈরির জন্য প্রায় তাে মার্কেটিং করার জন্য সে নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরী করেন। সে ফেইসবুক সাইটও ব্যবহার করেন এবং প্রতিদিন বাসাতে বসে প্রায় ১০ বোতলের মত তেল বিক্রয় করেন। সিরাজুম মুনিরা প্রথম দিকে সদস্যায় পড়েছিলো। তিনি বলেন“ আমি ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতাম কিন্তু যখন থেকে বি’ইয়ার প্রশিক্ষণ পেয়েছি। আমার উৎসাহ আরো বেড়ে গিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে শিখেছি এবং জেনেছি আমি এক বছরে ৩ লক্ষ টাকা আয় করতে পারব। আমি সেভাবেই পরিকল্পনা মত এগিয়ে চলেছি। বি’ইয়ার মেলায় সর্বপ্রথম যোগ দিয়ে আরো উৎসাহ বেড়েছে।। আগামী ২ বছরের মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানে ৩-৪ জন কর্শীকে স্থায়ীভাবে চাকরি দিতে চাই, তাহলের ব্যবসার পরিসর আরো বেড়ে যাবে। সিরাজুম মনিরাকে কোন ব্যাংক থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ প্রয়োজন পড়েনি। তিনি ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য পরিকল্পনাও করছেন। তার ব্যবসা নিয়ে অনেক স্বপ্ন তিনি তার পণ্যকে একটি ব্যান্ডে তৈরী করবে। িিন বলেন, আমি সেই স্বপ্ন দেখি যখন মানুষ চিরুনী’র পণ্য কিনে হবে ধন্য।
তিনি তার উদ্যোগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। ‘চিরুনী’ একদিন স্বমহিমায় কেক, চিরুনী ও হারবাল তেলের বিশ^স্ত পণ্য হিসেবে স্থান করে নেবে এই প্রত্যাশায় পরিশ্রম করছে সিরাজুম মুনিরা।

Leave a comment