Skip to content Skip to footer

ফাতেমা

ফাতেমার এসি মেরামতের প্রতিষ্ঠান


বাংলাদেশের এসি মেরামতের কাজটি যেখানে সাধারণভাবে পুরুষদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানে ফাতেমা আক্তার সাথী একটি ব্যাতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ফাতেমা সাফল্যের সাথে একটি এসি সংযোজন এবং মেরামতের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
ফাতেমা বলে, ‘পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম, যেখানে আমার এমন কিছু লোকদের সাথে কাজ করতে হতো যাদের কাজ ছিল ঐ প্রতিষ্ঠানের এসিগুলো মেরামত করা। তাদের সাথে কাজ করতে করতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই আমি কাজটি শিখতে শুরু করি। ঐ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা অবস্থায় আমি এসি মেরামত এবং মেরামতের খুটিনাটি বিষয় গুলো আয়ত্ব করি। পরে আমি চাকরি ছেড়ে দেই। এরপর ২০১৬ সালে তিন লক্ষ টাকা মূলধন এবং একজন মহিলাকে সাথে নিয়ে আমি এসি সংস্থাপন এবং মেরামতের ব্যবসা শুরু করি। পিরোজপুরে থাকা আমার বাবা মা এই বিষয়টি একদম মেনে নিতে পারেননি। সহযোগিতা করার বদলে আমাকে বিয়ে করার জর‌্য চাপ দিতে থাকে, কিন্তু আমি রাজী হইনি। যাই হোক আমাদের যৌথ উদ্যোগ, ভাল ভাবেই চলতে থাকল। কিন্তু কয়েকমাস পরে ব্যবসার অংশীদারদের সাথে মতের অমিল শুরু হয়। মনে হল আর যৌথ ব্যবসা নয়, তাই ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে ২০১৮ সালে বাড্ডায় একই ব্যবসা শুরু করি। আমার সৌভাগ্য যে, সেই সময়েই আমি বি’ইয়া’র কথা জানতে পারি এবং তারা আমাকে প্রশিক্ষণের জন্য সুযোগ করে দেয়। বি’ইয়াতে আমার মত অন্যান্য তরুণদের দেখে আমি আতœবিশ^াস ফিরে পেয়েছি। আগের যৌথ ব্যবসায় কোন কাগজপত্র বা লিখিত চুক্তিপত্র ছিলো না বলে আমি অনেক ভুগেছি। এখন আমি জানি একটি ব্যবসা জন্য কী কী কাগজ লাগে এবং ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র থাকা কতটা জরুরী। জেনেছি কিভাবে ক্রেতার সাথে ব্যবহার করতে হয়, ব্যবসার হিসাব এবং কর্মী ব্যবস্থাপনা করতে হয়।
এখন আমার ব্যবসা টি মোটামুটি ভালোভাবে চলছে। বর্তমানে চারজন কর্মী আছে যারা এসি মেরামত এবং সংযোজনের কাজ করে থাকে। উন্নত সেবার জন্য কখনও কখনও আমি বেশ প্রশংসা এবং সময়মত মজুরী পেয়ে যাই যা আমাকে উদ্যোক্তা হতে আরো উৎসাহিত করে।
এই ব্যবসা শুরুর প্রথমেই সকলের অনেক বিরূপ মন্তব্য শুনতাম। তাদের কারো ধারনা ছিল না যে এই ধরণের ব্যবসা মেয়েরাও করতে পারে। সকলে ভাবতো এটা শুধু পুরুষদের কাজ। অনেক বাধা সত্ত্বেও এগিয়েছি আর এ ব্যাপারে আমার মেন্টর গুলশান আপা আমাকে খুব সহযোগিতা করেছে, এখনও করছে। আমি মনে করি, আমরা মেয়েরা সব ব্যবসাই করার যোগ্যতা রাখি, শুধু সাহসের প্রয়োজন আর প্রয়োজন বি’ইয়া’র মত সংগঠনের।’
ফাতেমার স্বপ্ন হলো তার প্রতিষ্ঠানটি হবে দেশের নামকরা এসি মেরামত এবং সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান, সে পথেই এগিয়ে চলেছে ফাতেমা।

Leave a comment