Skip to content Skip to footer

ফরিদা

ফরিদা অনুপ্রেরণার নাম


“একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পেরেই অঅমি উচ্ছসিত ও আনন্দিত। আমার পরিবারের কেউ ব্যবসার সাথে জড়িত না থাকলেও আমি লেখাপড়া শিখে একজন উদ্যোক্তা হতে পেরেছি বলে আমি গর্ব বোধ করি” কথাগুলো তরুণ উদ্যোক্তা ফরিদা বেগমের।
ফরিদা তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পে বলেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা একজন মেয়ে। এই পরিবারে মেয়েরা লেখাপড়া শিখে চাকরি করে, কখনো ব্যবসায় জড়িত হয় না। আমি যখন গণিত বিষয়ে মাষ্টার্স শেষ পর্বে তখন লেখাপড়ার আর ক্লাস পর কিছুই করার থাকতো না। প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়তাম আর ব্যবসার পাতাটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। পরিবার থেকে ইতিমধ্যে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া শুরু হয়েছিল। তবে একটা বিষয় ছিল, যদি সরকারি চাকরি পেয়ে যাই তবে বিয়ে কিছুদিন পরে করলেও চলবে। কখনোই ব্যবসার কথ্যা বলার সাহস হয়নি। অবশ্য ছোট বেলা থেকে বাসায় কাপড়ে বিভিন্ন কাজ করতাম। এরই মধ্যে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে বি’ইয়ার একটি ওয়ার্কশপে যাই। আমি যেন আমার মনের কথারই প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। আমি সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি উদ্যোক্তাই হবো।
বি’ইয়া’র ব্যবসা প্রশিক্ষণ নেয়ার পর আমি সেলাই এর প্রশিক্ষণ নেই। আমি প্রাইভেট পড়াতাম, হাত খরচের পরও বেশ কিছু টাকা জমা হয়েছিল। সে টাকা দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে আমার বন্ধুর বাসার ছাদে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করি ফরিদাস হ্যান্ডি ক্রাফট এর পথ চলা। বন্ধুর বাসাতেই ব্যবসা শুরু করার পর আমি বুঝতে পারি আমার পণ্যের গুণগতমান উন্নয়ন করা প্রয়োজন। আমি এসএমই ফাউন্ডেশনে ফ্যাশান ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এর পর আমি আমার তৈরি পণ্যের গুণগতমানের উন্নয়ন করতে সক্ষম হই এবং স্থানীয় বাজারে আমার তৈরি পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়তে থাকে। একদিন আমার মা-বাবাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি সেই সাথে আমার তৈরি কিছু পোষাক তাদের দেখাই। তারা এসব দেখে খুশি হয়, আমিও দ্বিগুণ উৎসাহ পেয়ে নতুন উধ্যোমে কাজে নেমে পড়ি।
সমস্যা দেখা দিল পণ্য বিপণনে। কোথায়, কার কাছে যাবো কিভাবে বিক্রি করবো এই ধরণের সমস্যা যখন পড়েছি ঠিক তখনই বি’ইয়া আমাকে মেন্টরের সাথে যুক্ত করে দেয়। আর একটি বিষয়, ২০১৮ সালে বি’ইয়া আয়োজিত পণ্য মেলায় আমার প্রথম অংশগ্রহণ করা। সেই মেলঅ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, জেনেছি এবং বুঝতে পেরেছি আমার পণ্যের কি কি পরিবর্তন করা প্রয়োজন, বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাদের চাহিদা ও মানসিকতা। এর মধ্যেই অঅমি ব্যবসার রিখিত পরিকল্পনা করেছি, অংশগ্রহণ করেছি বি’ইয়াসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে। আমি কৃতজ্ঞ আমার মেন্টরের মমতাজ মাকসুদ আপার প্রতি। তিনি আমাকে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
আমি অনুভত করতে পারছি, একজন উদ্যোক্তা বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তার জন্য বি’ইয়া’র মত একটি প্লাটফর্ম খুবই প্রয়োজন। আমি বি’ইয়া’র তরুণ উদ্যোক্তা প্লাপর্মের সাথে যুক্ত হতে পেরে খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। এখন আমার ব্যবসার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমার প্রতিষ্ঠানে ছয়টি সেলাই মেশিন, দুই জন স্থায়ী কর্মী ও তিনজন অস্থায়ী কর্মী কাজ করছে। আমি আমার কারখানাটি পরিবেশ বান্ধব করার চেষ্টা করছি। বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত হওয়ার পর কর্মী ব্যবস্থাপনা, লিখিত হিসাব রাখা, নেটওয়ার্ক বিষয়ে অনেক দক্ষ হয়েছি। আমার বাবা মা এখন অনেক খুশি। তারা বুঝতে পেরেছে, একজন নারীও একজন বভালো উধ্যোক্তা হতে পারে। আমার একটি কাহিনী ওয়াইবিআই এর ওয়েবসাইটে স্থান পেয়েছে। আমিও চেষ্টা করছি যাতে অন্য তরুণরাও আমার মত উধ্যোক্তা হতে পারে।
পরিশেষে, এখন আমি আমার পরিচয়ে পরিচিত। সকলেই আমাকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে চেনে। বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ করছি। আমি আতœবিশ^াসী যে আগামী তিন বছরের মধ্যে আমার ফরিদাস্ হ্যান্ডিক্রাফট একটি বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। অনেক ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান হবে। আমার তৈরি পণ্য দেশেরই বাইরে রপ্তানী হবে। ামি চাই প্রত্যেক নারী তার নিজের কাজের গুণেই বাচুঁক।

Leave a comment