Skip to content Skip to footer

মমিন দেওয়ান

স্যামু লেদারই উদ্যোক্তা মমিন দেওয়ানের পরিচয়


উদ্যোক্তা হতে হলে বয়স যে কোন বাধা নয় তার উদাহরণ মমিন দেওয়ান। মাত্র ২৩ বছর বয়সে মমিন দেওয়ান প্রতিষ্ঠা করেছে স্যামু লেদার নামক চামড়াজাত পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান।
মমিন দেওয়ান ২০১৪ সালে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসে অনার্সে ভর্তি হয়্। বড় ভাইয়ের কাছে থাকায় লেখাপড়া আর হাত খরচের টাকার কোন চিন্তাই ছিল না তার। বরং হাত খরচের টাকা জমিয়ে লাখতে রাখতে এক সময় তার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার পেরিয়ে যায়। বড় ভাই খুব আদর করতেন, বলতেন, মমিন ভাল করে লেখাপড়া কর, ভাল একটা চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু মমিন দেওয়ান ততদিনে চাকরির চিন্তা বাদ দিয়ে জমানো টাকা দিয়ে কি করা যায় সে চিন্তায় বিভোর। সে লক্ষ্য করেছে চামড়াজাত পণ্যের প্রতি তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। মাত্র ২৫ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে সে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে চামড়াজাত পণ্য যেমন বেল্ট, মানি ব্যাগ ইত্যাদির কিনে প্রথমে বন্ধু বান্ধব ও পরে বিভিন্ন মেলায় বিক্রি শুরু করলো। এদিকে বড়ভাই এবং গ্রামের বাসায় খবর পেয়ে বাবাও রেগে গেল ব্যবসা শুরু করার জন্য। মমিন কিছুতেই বোঝাতে পারলো না যে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসাটা করছে। কিন্তু পরিবার থেকে ঐ এক কথা আগে পড়াশুনা শেষ হোক তারপর ব্যবসা। মমিন কিছুটা মেনে নেয়ার ভান করে চালিয়ে গেল ব্যবসা। সুযোগ পেয়ে ২০১৬ সালে চামড়াজাত পণ্য বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করলো বিসিক থেকে। এর অল্প কদিন পর ২০১৭ সালের প্রথম দিকে একদিন উত্তরার এক মেলায় বি’ইয়ার মেহেদী হাসানের সাথে দেখা। তারপর বি’ইয়ার সাথে যুক্ত হওয়া, প্রশিক্ষণ নেয়া, ব্যবসা পরিকল্পনা করা। আর ঠিক তখন থেকেই তার চিন্তার দিগন্ত বিস্তৃত হতে লাগলো। সে চিন্তা করে দেখলো, এক দোকান থেকে পণ্য কিনে আর অনত্র বিক্রি করার চেয়ে নিজেই ছোট পরিসরে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করলে মুনাফা বেশি। ব্যস, সেইভাবা সেই কাজ। মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু মমিনের পথ চলা। এরপর বিভিন্ন মেলায় অংশ নিয়ে যে আয় হয়েছে সেই টাকা পুনরায় ব্যবসায় লগ্নি করেছে। এভাবে অঅয় দিয়ে মোহাম্মদপুরের একটি কারখানা ভাড় নেয়া হলো। প্রক্রিয়াজাত চামড়া পাইকারি কিনে এনে, ২ জন কর্মী রেখে শুরু হলো উৎপাদন। ততদিনে বাসার লোকজন বুঝে গেছে এ ছেলেকে দিয়ে আর যাই হোক চাকরি করানো যাবে না। গত দুই বছরে মমিন নিজের প্রতিষ্ঠান স্যামু লেদারের পণ্য নিয়ে অংশ গ্রহণ করেছে বিভিন্ন মেলায়। বি’ইয়ার তরুণ উদ্যোক্তাদের প্লাটফর্মের একজন সক্রিয় কমী হিসেবে যুক্ত আছে বি’ইয়ার সাথে। বি’ইয়া তাকে দিয়েছে একজন ব্যবসায়িক মেন্টর। যার দিক নির্দেশনায় এগিয়ে চলছে মমিন দেওয়ান। অনলাইনে দারাজ, আলিবাবায় রয়েছে তার পণ্য। বর্তমানে তার কারখানায় কর্মরত আছে ৭ জন কর্মী। বর্তমানে মমিন দেওয়ানে স্যামু লেদারে রয়েঝে ৬টি মেশিন, ৭ জন কর্মী। এখন তার পুঁজি হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা।
স্যামু লেদার নিয়ে মমিন দেওয়ানের পরিকল্পনা, “ আমি আগামী তিন বছরের মধ্যে আমার তৈরি পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করবো, আমার নিজস্ব একট ব্রান্ড হবে। আমার কারখানা আরো বড় হবে, অন্তত ৫০ জন কর্মী আগামী তিন বছরের মধ্যে থাকবে আমার কারখানায়। আমার বাসার লোকজন এখন আমাকে সাপোর্ট করছে। আমি চাই আমার মত তরুণরা চাকরির পিছনে না ছুটে, চাকরি দেয়ার জন্য উদ্যোক্তা হোক।”
মমিন দেওয়ান এগিয়ে চলেছে তার লক্ষ্যের দিকে, সেই সাথে এগিয়ে নিতে চায় আরো তরুণ উদ্যোক্তাদের।

Leave a comment