Skip to content Skip to footer

তুষার আব্দুল্লাহ

স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস উদ্যোক্তা তুষার আবদুল্লাহ


একজন ২৯ বছরের তরুণ, যে শুধু স্বপ্ন দেখে আর বসে থাকেনি। উদ্যোক্তার পথটা অমসৃন জেনেও যে হাসিমুখে সব বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে চলেছে লক্ষ্যের দিকে দ্বিধাহীন। সেই সফল তরুণ উদ্যোক্তার কিছু কথা জানাই তার মুখ থেকেই।
“আমি আবদুল্লাহ তুষার। আমরা লক্ষ্মীপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা, বর্তমানে মিরপুরে থাকি আর ব্যবসাও এখানেই। উচ্চশিক্ষার জন্য আমার ঢাকায় আসি ২০০৯ সালে। পকেট খরচের জন্য বাবা আমাকে টাকা পাঠাতেন। সেখান থেকে আমি টাকা সঞ্চয় করে নতুন নতুন পোশাক কিনতাম। এটা ছিল আমার নেশা। টাকা জমিয়ে আমি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় যেতাম নতুন নতুন পোশাক কেনার জন্য। ভাবতাম পড়াশোনা শেষ করার পরে, আমি কি করব। আমি কখনো চাকরি করার কথা ভাবিনি যদিও আমার পরিবারের সকলেই পেশায় চাকরিজীবি। এক মামার সাথে, আমি একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করি। অন্য কোন পণ্যের কথা মাথায় আসেনি, শুধু চিন্তায় ছিলো যা করার তা ছেলেদের পোষাক নিয়েই করবো। বিভিন্ন জায়গা থেকে কাপড় সংগ্রহ করে বিক্রি করতাম, কিন্তু সেই সময় আমরা লাভ করতে পারিনি। পণ্যের গুণগতমানও ভালো ছিলো, কিন্তু কিছুতেই লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমি মহা সমস্যায় পড়ে যাই। অনেকের কাছেই সমস্যার কথা বলি, কিন্তু সমাধান পাচ্ছিলাম না। যোগাযোগ হয় বি’ইয়া’র সাথে। এটা ২০১৭ সালের প্রথম দিকে। দু’টি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি, তারপর বিজনেস প্লান তৈরি করার সময় আমরা আমাদের সমস্যার সমাধান পেয়ে যাই। আমি বুঝতে পারি যে, তখন (২০১২ সাল) অনলাইন সবে মাত্র শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। অনলাইন কেনাকাটায় বেশিরভাগ মানুষই অভ্যস্ত হয়নি। আমরা অনলাইনে কেনার প্রবণতা থেকে বুঝতে পারি, মূলত উৎসব ধর্মী পোশাক অনলাইনে বেশি বিক্রি হচ্ছে এবং ক্রেতা হিসেবে তরুণরাই বেশি। ফলে আমরা আমাদের কৌশল পরিবর্তন করে ঈদে-এর মৌসুমে নতুন করে কাজটা আবার শুরু করি। এবার আমরা প্রচুর পরিশ্রম করি এবং ভালো সাড়া পাই। এতে আমাদের অনেক লাভ হয় এবং আত্মবিশ^াস ফিরে আসে। আমাদের প্রতিষ্ঠান অবৎড় ইষঁব এই দুই বছরেই একটি ব্র্যান্ড নামে পরিণত হয়েছে।
বি’ইয়া’র তরুণ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে আমি একজন সক্রিয় কর্মী। গত তিন বছরের মধ্যে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করি। মাত্র বিশ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন এর বর্তমান মূলধন সাত লক্ষ টাকা। শুরুতে একাই কাজ করতাম, এখন আমার প্রতিষ্ঠানে আরো সাতজন কর্মচারী আছে। বি’ইয়া’র সহযোগিতায় আমি মাইডস থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছি। একজন মেন্টর পেয়েছি, তিনি আমাকে ব্যবসার বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। বি’ইয়াতে এসে আমার অন্য অনেকের সাথে নেটওর্য়াকিং হয়েছে। এ বছরের (২০১৯) শুরুতে নোয়াখালীতে অবৎড় ইষঁব এর আর একটি শোরুম খুলেছি। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে আরো দুটি শোরুম দিতে চাই।”
এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে তুষার তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে।

Leave a comment