Skip to content Skip to footer

উম্মে হাবিবা

পরিবারের সমর্থন সাহস যুগিয়েছে উম্মে হাবিবাকে


কিছু দিন চাকরি করার পর নিজের মত করে কিছু করার প্রত্যয়ে মিরপুরে উম্মে হাবিবা (২৫) টেষ্টি টেবিল নামে ফাস্ট ফুড ব্যবসা শুরু করেছেন। টেষ্টি টেবিলের খাবারের স্বাদ মিরপুর ১২নং দুয়ারীপাড়ার বাসিন্দাদের খুবই পছন্দের।
লেখাপড়া শেষ করার আগেই বিয়ে। শ^শুড়-শাশুড়ির চাপেই চাকরিতে যোগ দেয়া। হাবিবা বলে, আমার শ^শুড়-শাশুড়ির কথা, শিক্ষিত মেয়ে ঘরে বসে থাকবে কেন। তোমার ইচ্ছে হলে কিছু একটা করো। াামার স্বামী একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, আমারও ইচ্ছে ছিলো কিছু একটা করার। সে অনুযায়ী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরিতে যুক্ত হলমা। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই চাকরি আর ভালো লাগছিলো না। স্বামী বললো,‘চাকরি ভালো না লাগলে বাদ দাও’, চাকরি বাদ দিলাম। এরপর ঘরে অখন্ড অবসর, কী করি কী করি যখন ভাবছি, তখন আমার এক পরিচিত জনের মাধ্যমে বিই’য়ার সাথে যোগাযোগ হলো। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার মত ফ্রেসকে বি’ইয়া নেবে না। কিন্তু তারা আমার কিছু করার আগ্রহ দেখেই তাদের সাথে নিয়ে নিলো। তারপর দুটি প্রশিক্ষণ নিয়েছি, জেনেছি যে কোন উদ্যোগ নেয়ার জন্য কী কী করা প্রয়োজন।
এরপর আমার পরিবারে প্রশিক্ষণের কথাগুলো আলোচনা করে ঠিক করলাম, ব্যবসা করবো। ব্যস,শ^শুড় আর আমি মিলে শুরু করলাম ওয়াজিবা ফুড পার্ক। শ^শুড়ের কাজ হলো বিক্রির হিসাব লিখে রাখা আর আমি বাজার থেকে শুরু করে কর্মী ব্যবস্থাপনা সবই করতাম। কিন্তু কিছুদিন পর দোকানের মালিকের নানা ধরণের উৎপাতের জন্য দোকান ছাড়তে বাধ্য হলাম। সেখানেও বাধলো সমস্যা। আমার দেয়া অগ্রীম আর কিছুতেই সমন্বয় করে না। পাওনা টাকা ফেরতও দেয় না। এদিকে ব্যবসা চালিয়ে যাবোই তা ই অন্য একটি দোকান ঠিকও করে ফেলেছি। সেখানে অগ্রীম দিতে হবে এদিকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে দোকানের মালিক, কিছুতেই টাকা দিচ্ছে না।
সমস্যা থেকে উত্তোরণের উপায় দেখিয়ে দিলো আমার মেন্টর আর বি’ইয়া। স্থানীয় থানায় গিয়ে মামলা করেই সুরাহা। তারপর শুরু করলাম নতুন নামে ‘টেষ্টি টেবিল’ ফাস্টফুড। আমি যখন পুরনো দোকানের মালিকের সাথে সমস্যায় পড়েছিলাম তখন খুব টেনশন গেছে। এতগুলো টাকা তার উপর দোকানের মালিকের ব্যবহার আমার দিন রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো। ঐ সময় বি’ইয়া আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, কিভাবে সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় তা শিখিয়েছে। আমি আমার মেন্টর এবং বি’ইয়া’র কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই অন্য বি’ইয়া পরিবারের অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের, যারা সব সময় আমাকে সাহস যুগিয়েছে। আর আমার পরিবারের সকলকে যারা আমাকে স্বাধীনতা ও প্রেরণা দিয়েছে নিজের পায়ে দাঁড়াবার জন্য।
উম্মে হাবিবা এখন স্বপ্ন দেখে তার টেষ্টি টেবিলের স্বাদ পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তার প্রতিষ্ঠান অনেক বড় হয়েছে। অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তার পরামর্শ, ভয় পেলে হবে না এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ়তার সাথে।

Leave a comment