Skip to content Skip to footer

All Team

ছোটোবেলা থেকেই মনের মধ্যে একটি কথা ভাবতাম যদি কখনো কিছু করার সুযোগ হয় তাহলে ভালো একটা চাকরি করবো!!! সব সময় মনের ভিতর এই ইচ্ছে পোষণ করতাম, আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম আর চিন্তা ভাবনা যেনো বাড়তে লাগলো, হঠাৎ একটা দুর্ঘটনার শিকার হলাম, যার দরুন প্রভাব আমার মনের ভিতর জমানো স্বপ্নের ওপর পড়লো। তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল সেই পরিস্থিতি থেকে আমার মনের মধ্যে পুষে রাখা সেই স্বপ্ন কে এক কথায় বদল করে দিলাম ভাবতে থাকলাম আমি চাকরি নয় এইবার অন্য কিছু করবো, যাতে আমার মতো যতো নারী আছে সমাজে তাদের নিয়ে কাজ করব, নিজে ও প্রতিষ্ঠিত হব অন্য কে ও প্রতিষ্ঠিত করব, স্বাবলম্বী করে তুলব।

শুরুটা হয়েছে ২০১৯ সালের শেষের দিকে, একধম হঠাৎ করেই ঘুনাক্ষরেই জানতাম না যে আমি উদ্যােক্তা হবো। ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করবো অন্তত বেকার থাকবো না নিজের একটা পরিচয় তৈরি করবো হয় তো সেটা হতে পারে কোন একটা ভালো চাকরি। যাই হোক গ্রাজুয়েট করার আগেই অভিজ্ঞতার জন্য কিছু একটা করার উদ্যামে নেমে পড়লাম , যেই কথা সেই কাজ বিভিন্ন ট্রেনিং নিলাম এবং তখনিই মাথায় আসলো ব্লকবাটিক,হেন্ডপিন্ট , হাতের কাজ ইত্যাদি তো আমরা পারি তাহলে তো আমরা বিক্রি করতে পারি, কথাগুলা সিয়ার করছিলাম বান্ধুবীকে। আমার কথা শুনে আমরা ৭ জন মিলে ৭ হাজার টাকা নিয়ে নেমে পড়লাম বিজনেসে। তখনিই বুঝতে পারলাম আরে বিজনেস বা উদ্যােক্তা হতে হলে তো অনেক ধরনের স্কিল জানতে হয় কারন তখনও আমরা প্রোডাক্ট গুলা বিক্রি করতে পাচ্ছিলাম না।

আমি মুন্সিগঞ্জের মেয়ে রেবেকা সুলতানা। বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবনে আমি এক কন্য এবং পুত্র সন্তানের জননী। বিয়ের পর আমি মাস্টার্স শেষ করি। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ যেমন কুশি-কাটা সহ পোশাকের ডিজাইনিং এ দক্ষতা অর্জন করি। ছেলে-মেয়েদের দেখাশুনা এবং সংসারের কাজের পাশাপাশি আমার স্বামী আমাকে ব্যবসা করার অনুপ্রেরনা দেয়। তার অসুপ্রেরণা এবং ৫০,০০০/- টাকার সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করলাম। আমার আগ্রহ ও উদ্যোগ দেখে আমার পরিবার একটা পারিবারিক দোকানের ব্যবস্থা করে দেয়। দোকান শুরু করার কিছুদিন পরে লক্ষ্য করলাম আমার পন্যগুলো আশে-পাশের মানুষ বাদে কেউ কিনছে না বা বিক্রি হচ্ছে না। সেই সময় পরিচয় হলো বি’ইয়ার সাথে।

সেই ছোট্ট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম, বড় হবো। কিন্তুু সপ্ন পূরনে প্রয়োজন অনেক কিছু যা আমার ছিলো না। ছিলো শুধু একটা স্মাট ফোন সেটাকেই কাজে লাগিয়ে শুরু করি সপ্নের পথ চলা। ২০১৯ এ শুরু আমার আমার সপ্ন Esha’s fashion এর পথ চলা। শুধু মাএ একটা ওনলাইন পেজ থেকে কাজ শুরু করি আমি। তখন ছিলো না কোন সপ বা কারখানা। নিজেই অর্ডার নিতাম নিজেই বানাতাম আবার নিজেই ডেলিভারি দিতাম। প্রথমে একটা মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করি তার পর আস্তে আস্তে একটা ছোট কারখানায় রুপান্ত করি যা এখন অনেক গুলো সংস্বারের খরজ বহনের সক্ষমতা রাখে। যতটা সহজে বলেফেলাম পথটা ততটা সহজ ছিলো না। বার বার হোচট খেয়েছি, বার বার উঠে দাড়িয়েছি।

আমি পিয়ার ইসলাম (জীবন) পিতা-মাতার একমাত্র পুত্র সন্তান এবং খুব আদরে মাঝে ছোট থেকে বেড়ে উঠেছি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। মাস্টার্স শেষ করার পর বেকার জীবনে মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই একরকম শখের বসে কোয়েল পাখি নিয়ে ছোট একটা খামার গড়ে তুলি। খুব দ্রুত এই শখের বিষয় আমার আয়ের উৎস হয়ে উঠে। আমার ছোট খামার ব্যবসায় রুপ পায় বি’ইয়ার সাথে পরিচয়ের পর থেকে।

আমি মারিয়া আক্তার, ব্যবসা শুরু করি ইংরেজি ০১/০৯/১৯ তারিখে। আমার ব্যবসার নাম মারিয়া ফুড ক্যাফে। প্রথম দিকে ভালই চলছিল কিন্তু করোনায় সময় বিক্রি এতটা কমে যায় যে অনিচ্ছা স্বত্তেও দোকনটি বন্ধ করতে হলো। বেশ চিন্তিত হয়ে যাই, কোন উপায় না দেখে কয়েক মাস বসিয়ে ব্যবসা বন্ধ রেখে অন্যের কাছে দোকান ভাড়া দেই। নিজের চোখের সামনে নিজের স্বপ্নকে শেষ হতে দেখতে পারছিলাম না।

আমি মাহমুদা আক্তার, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা- কাজ করছি মেয়েদের পোশাক নিয়ে বিগত দুই বছর ধরে । বাবা, মা, এক বোন, এক ভাই নিয়ে আমাদের পরিবার। আমি ইডেন মহিলা কলেজ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি ম্যানেজমেন্টের উপরে। পড়ালেখা শেষ করার পরে চাকুরি খোজা শুরু করি, কিন্তু করোনা পরিস্থিতি চলে আসার কারণে চাকুরিও পাচ্ছিলাম না। তখন আমি তৈরী পোশাক কিনে এনে ফেসবুকে স্টাইলিন নামে পেজ খুলে বিক্রি করার চেষ্টা করি।

পরিবার সদস্য সংখা ৪ জন। স্বামী ও দইু ছেলে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছে। ছোট ছেলের ৪ বছর। স্বামী ইন্টোরিউর এবং কাঠের ব্যবসা করতেন। ২০১৯ সালে ব্রেন স্টোক করে এখন শয্যাসায়ী। স্টোক করার পর আস্তে আস্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। স্বামীর চিকিৎসার জন্য অনেক খরচ হয়ে যায়।
সংসারের টানা পুরন শুরু হয়, স্বামীর চিকিৎসা খরচ, বড় ছেলের লেখা পড়ার খরচ চালাতে হবে। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। এক সময় মনোস্থির করি নিজেই কিছু করতে হবে। বড় ছেলের সাথে শেয়ার করি বিষয়টি। ছেলে উৎসাহ দিয়েছে, জেসমিন মায়ের কাছ থেকে হাতের কাজ শিখেছিলেন। ভাবলেন এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতে হবে। বড় ছেলের জমানো ৫০০০ টাকা দিয়েই উদ্যোক্তা জীবন শুরু।

৬ সদস্যের পরিবারে আমার বাবা-মা, ছোট বোন, এবং আমার স্ত্রী ও কন্যা সন্তান। পরিবারের বড় সন্তান আমি। বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। গাজীপুরের কাপাসীয়া গ্রামে বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। অর্থের টানা পুরণে বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকা চলে আসেন আমাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসেন। ঢাকায় বাবা প্লাষ্টিক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসা শুরু করলেন এবং মা এনজিওতে চাকরি করেন। গ্রামের কলেজ থেকে ২০০৬ সালে ব্যবসা শিক্ষায় এইচ এস সি পাশ করি। বিদেশে যাবার চেষ্টা করি অনেক দিন কিন্তু অর্থের অভাবে আর যাওয়া হয়নি।

বাবা-মা, ১ বড় ভাই ও ১ ছোট বোন নিয়ে ৫ সদস্যের ছোট পরিবার আমাদের। বাবা দেশের বাহিরে ছিলেন বহু বছর, বড় ভাই এখন দেশের বাহিরে চাকরি করছেন। ছোট বোন এর বিয়ে হয়েছে। ফিজিক্স এর উপর কবি নজরুল সরকারী কলেজ থেকে অর্নাস করেছি।
ছোটবেলা থেকেই চাকরি করার প্রতি অনিহা ছিল। ইচ্ছে ছিল নিজে কিছু করার, এই আগ্রাহ থেকেই কলেজে পড়া অবস্থায় ২০১৫ সালে কোচিং সেন্টার খুলেছিলাম। ২০১৬ সালে পার্টনারে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার চালু করি। মাথায় ছিলো পড়াশোনা চলাকালীন সময়েই ব্যাবসা রেডি করে রাখা, যাতে বাসা থেকে চাকরির জন্য প্রেশার না দিতে পারে। ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে ক্লাউড-১১ রেষ্টুরেন্ট যাত্রা শুরু করে।

৬ সদস্যের পরিবারে আমার এক ভাই, এক বোন, বাবা-মা এবং আমার স্ত্রী। পরিবারে বড় সন্তান আমি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে ইংরেজিতে স্নাতক শেষ করি। ছোট ভাই-বোন লেখাপড়া করছে। বাবা ব্যবসা করেন।
আমার বিজনেসে আসার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে আমি কখনোই চাইতাম না অন্য কারো অধীনে কাজ করতে বরং চাইতাম নিজেই নিজের কর্ম-সংস্থান গড়তে। ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায় যাওয়া আসা হত এবং মাঝে মাঝে বসাতাম। আর সব সময় পরিবার আমার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেহুতু চাকরি করব না, ব্যবসা করার মনস্থির করেই শুরু করি।

মোহাম্মদ পারভেজ সজীব, ১৯৮৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার ছয়ানি টবগাঁ গ্রামে জন্ম হয়। বাবা ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী মা গৃহিনী দুই বোন এক ভাই এর মধ্যে পারভেজ সবার বড়। বাবার চাকুরির সুবাধে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দর সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।